এইচএসসি-২০২৬(hsc-2026) একনজরে মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন — বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন (MCQ ও CQ)

🔷 ভূমিকা
রসায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি হলো মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন। প্রতিটি মৌলের গুণ, প্রতিক্রিয়াশীলতা, ও যৌগ গঠনের ধরন বোঝার জন্য এই বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। চলুন বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করি।
🧭 মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্ম কী?
মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলতে এমন বৈশিষ্ট্য বোঝায়, যা পর্যায় সারণির একটি পর্যায় (period) বা একটি গোষ্ঠী (group) অনুসারে নিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ, মৌলগুলির পারমাণবিক সংখ্যা বাড়লে তাদের গুণাবলি নির্দিষ্ট নিয়মে পরিবর্তিত হয়।
📘 প্রধান পর্যায়বৃত্ত ধর্মসমূহঃ
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ (Atomic radius)
- গোষ্ঠীতে নিচের দিকে নামলে ব্যাসার্ধ বাড়ে।
- পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে ব্যাসার্ধ কমে।
👉 কারণ: নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং ইলেকট্রন স্তর অপরিবর্তিত থাকে।
- আয়নন শক্তি (Ionization Energy)
- গোষ্ঠীতে নিচে নামলে কমে যায়।
- পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে বাড়ে।
👉 কারণ: ইলেকট্রন সরাতে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ অতিক্রম করতে হয়।
- ইলেকট্রন আত্মীয়তা (Electron Affinity)
- সাধারণত পর্যায়ে বাম থেকে ডানে বাড়ে।
- গোষ্ঠীতে নিচে নামলে কমে।
- বৈদ্যুতিনঋণাত্মকতা (Electronegativity)
- পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে বাড়ে।
- গোষ্ঠীতে নিচের দিকে নামলে কমে।
⚛️ রাসায়নিক বন্ধন কী?
রাসায়নিক বন্ধন হলো দুই বা ততোধিক পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি বা বিনিময়ের মাধ্যমে গঠিত স্থায়ী আকর্ষণ বল।
📗 রাসায়নিক বন্ধনের প্রকারভেদঃ
- আয়নিক বন্ধন (Ionic Bond)
- গঠিত হয় এক মৌল ইলেকট্রন দান করে এবং অন্যটি গ্রহণ করে।
- উদাহরণ: NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)
- সোডিয়াম → ইলেকট্রন দেয়
ক্লোরিন → ইলেকট্রন নেয়
- সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond)
- দুইটি মৌল ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে বন্ধন গঠন করে।
- উদাহরণ: H₂, O₂, H₂O, CH₄
- ধাতব বন্ধন (Metallic Bond)
- ধাতু পরমাণুগুলির মধ্যে ইলেকট্রনের সাগর ভাগাভাগির মাধ্যমে গঠিত হয়।
- উদাহরণ: Cu, Fe, Al ইত্যাদি।
🔬 মৌলিক ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধনের সম্পর্ক
- মৌলগুলির বৈদ্যুতিনঋণাত্মকতা, আয়নন শক্তি, ও ইলেকট্রন আত্মীয়তা দ্বারা নির্ধারিত হয় কোন ধরনের রাসায়নিক বন্ধন গঠিত হবে।
- যেমন,
- বৈদ্যুতিনঋণাত্মকতার পার্থক্য বেশি হলে → আয়নিক বন্ধন
- পার্থক্য কম হলে → সমযোজী বন্ধন
- অর্থাৎ, পর্যায়বৃত্ত ধর্মের পরিবর্তনই রাসায়নিক বন্ধনের ধরন নির্ধারণ করে।
অবশ্যই 👍 নিচে “মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন” এর মূলভাব (সারসংক্ষেপ) দেওয়া হলো —
🧩 সারসংক্ষেপ:
মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্ম হলো মৌলগুলির এমন বৈশিষ্ট্য যা পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে নির্দিষ্ট নিয়মে পরিবর্তিত হয়। যেমন— পারমাণবিক ব্যাসার্ধ, আয়নন শক্তি, ইলেকট্রন আত্মীয়তা ও বৈদ্যুতিনঋণাত্মকতা।
এই ধর্মগুলির পরিবর্তনের ফলে মৌলগুলির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বন্ধন গঠিত হয়, যেমন আয়নিক, সমযোজী ও ধাতব বন্ধন। অর্থাৎ, মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্মই নির্ধারণ করে কোনো মৌল কীভাবে ও কোন ধরনের বন্ধনের মাধ্যমে অন্য মৌলের সঙ্গে যুক্ত হবে।
🧩 উপসংহার
মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বুঝলে সহজে অনুমান করা যায় কোনো মৌল কীভাবে প্রতিক্রিয়া করবে, কী ধরনের যৌগ গঠন করবে, এবং তার বন্ধনের প্রকৃতি কী হবে। তাই রসায়নের গভীর বোঝার জন্য এই অধ্যায়টি অপরিহার্য।
নিচে “মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন” অধ্যায় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন (MCQ ও CQ দুই ধরনের) দেওয়া হলো —
🧠 বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ):
- পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ —
ক. বাড়ে
খ. কমে
গ. অপরিবর্তিত থাকে
ঘ. অনিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হয় - গোষ্ঠীতে নিচে নামলে আয়নন শক্তি —
ক. বাড়ে
খ. কমে
গ. অপরিবর্তিত
ঘ. শূন্য - নিচের কোন মৌলটির বৈদ্যুতিনঋণাত্মকতা সবচেয়ে বেশি?
ক. ফ্লোরিন
খ. অক্সিজেন
গ. নাইট্রোজেন
ঘ. ক্লোরিন - NaCl যৌগে বন্ধনটি কেমন ধরনের?
ক. আয়নিক
খ. সমযোজী
গ. ধাতব
ঘ. হাইড্রোজেন বন্ধন - হাইড্রোজেন অণুতে (H₂) বন্ধনটি —
ক. আয়নিক
খ. একক সমযোজী
গ. দ্বিগুণ বন্ধন
ঘ. ত্রিগুণ বন্ধন - ধাতব বন্ধনে ইলেকট্রনগুলিকে বলা হয় —
ক. স্থির
খ. মুক্ত
গ. ঋণাত্মক আয়ন
ঘ. প্রোটন - ইলেকট্রন আত্মীয়তা সর্বাধিক কোন মৌলের?
ক. ফ্লোরিন
খ. অক্সিজেন
গ. ক্লোরিন
ঘ. নাইট্রোজেন
🧾 সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ):
- পর্যায়বৃত্ত ধর্ম কী? দুটি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
- আয়নন শক্তি ও বৈদ্যুতিনঋণাত্মকতার পরিবর্তনের ধারা বর্ণনা করো।
- রাসায়নিক বন্ধন কী? এর প্রকারভেদ ও উদাহরণ দাও।
- মৌলিক পর্যায়বৃত্ত ধর্মের পরিবর্তন কীভাবে বন্ধন গঠনে প্রভাব ফেলে— বিশ্লেষণ করো।
- NaCl ও H₂ অণুর বন্ধনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করো।
- ধাতব বন্ধনের গঠন ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- কেন পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমে যায় — ব্যাখ্যা করো।